Heart Touching Bangla Sad Story Mayer Valobasha Part 1

Mayer Valobasha Bangla Sad Story

Amrin Talokder { Part 1 }

আজ একটা চাকরির ভাইবা দিতে গেছিলাম। যানি না চাকরিটা হবে কিনা, তবে চাকরিটা হলে আমাদের পরিবারের আর কোন দুঃখ কষ্ট থাকবে না।

আমি বাবা মায়ের বড় ছেলে, আমার আর একটা ছোট বোন আছে, তিন জনের পরিবার আমাদের। আমি আমরিন। আর আমার ছোট বোন জান্নাতুন রুহি। আর আমার বাবা নেই,মা অনেক কষ্ট করে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে,কিন্তু মামা খালু না থাকায় আর টাকা না থাকায় কোন চাকরি হচ্ছে না।

Bangla Sad Story

আজও একটা চাকরির ভাইবা দিতে গেছিলাম। জানি না চাকরিটা হবে কিনা, তবে এটা শিওর যে এখানে কোন টাকা ছারাই চাকরি পাওয়া যায়। তাই আশা আছে চাকরিটা হওয়ার, কিন্তু ভাগ্যে না থাকলে করার কিচ্ছু নেই।

চাকরির ভাইবা দেওয়ার দুই দিন পর এক আত্নীয় বারিতে ফোন দিতেছিলাম,এমন সময় হটাৎ করে একটা এসএমএস আসলো। এসএমএস টা অন করে আমার চোখ চড়ক গাছ।

কি ভেবেছিলাম আর কি হলো,২ দিন আগে যে কম্পানিতে ভাইবা দিয়েছিলাম, সেখান থেকে এসএমএস আসচ্ছে। আমাকে বসের পিএ হিসেবে জয়েন করতে বলা হয়েছে।

আমার রেজাল্ট সব সময় ভালো ছিলো বিধায় হয়তো একবারে পিএ পোষ্টে দিয়েছে, কিন্তু একটা  সমস্যা হলো বস হচ্ছে একটা মেয়ে। মেয়েদের প্রতি আমার একটু বেশি এলার্জি আছে ,কালকে থেকে আমার জয়েনিং ডেট।

আজ তারাতারি ঘুম থেকে উঠে কিছু খাবার খেয়ে চলে গেলাম অফিসে। কিন্তু সমস্যা হলো রাস্তায়, মাঝ রাস্তায় জ্যামে আটকা পরে গেলাম।

আজ প্রথম দিন ১০ মিনিট লেট হলো। জানি না কপালে কি আছে। অফিসে যাওয়ার পর পিয়ন এসে বলল,

পিয়ন : স্যার ম্যাম আপনাকে যেতে বলেছে।

আমি পিয়নকে বললাম চাচা আমাকে স্যার বলা লাগবে না, আমি আপনার ছেলের বয়সি, তাই অন্য কিছু বলে ডাকবেন,তবুও স্যার বলবেন না আর.....

আমি: আচ্ছা, আমি আসতেছি। আপনি যান। তারপর আমি ম্যামের রুমে চলে গেলাম,

আমিঃ ম্যাম আসবো?

ম্যামঃ হুমম আসেন। প্রথম দিনই লেট কেন, এটা কি আপনার শ্বশুর বাড়ি পেয়েছেন যখন ইচ্ছে আসবেন যাবেন, এরপর লেট হলে চাকরি থাকবে না বলে দিলাম।

তার পর কিছু ফাইল দিলো আমাকে ঠিক করতে, আর বলল আজ থেকে আপনি আমার পিএ, ঠিক সময় মত কাজ করবেন, অলস ব্যক্তি আমি পছন্দ করি না।

আমি আমার কাজ করতে ছিলাম। আজ প্রথম তাই বেশি কোন কাজ নেই, আর আমি তো ম্যমের সহকারি তাই আমার কাজ হলো ম্যামকে সহায়তা করা।

Emotional Bangla Sad Story

দুপুর টাইমে লান্স করে আমি আমার ক্যাবিনে ফিরছিলাম। কিন্তু একজনকে দেখে আমি অবাক হয়ে যাই।

আমিঃ এইযে আপু, আমাকে একটা সাহায্য করবেন। মেয়েটিও আমাকে দেখে অবাক, 

তাহলে চলেন কে সেই মেয়ে তার সাথে পরিচয় হয়ে আসি।

মেয়েটি আর কেও নয়, সে হচ্ছে স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড। তাকে অনেক বার লাইন মারতে গেছিলাম, কিন্তু কোন কাজ হয়নি, আর এতো বছর পর আমাকে দেখে অনেকটা অবাক হয়ে যায়।

আমিঃ কি চিনতে পারছো নাকি পরিচয় দিতে হবে ?

মিমঃ না, না, তোমাকে চিনতে পারবো না এটা কোন কথা হলো, তা বিয়ে সাধি করছো নাকি??

আমি: না কিরিনি তবে করবো করবো ভাবতেছি।।

মিমঃ রিলেশন আছে,নাকি তোমার বাবা মায়ের পছন্দের মেয়ে??

আমিঃ আসলে মায়ের পছন্দ যেটা, সেটাই করবো,কেননা মা অনেক কষ্ট করে আমাকে আজ প্রতিষ্ঠিত করছে,তার অমতে কিভাবে বিয়ে করি বলো।

মিমঃ কেন তোমার বাবার কি হযেছে???

মিম হয়তো জানে না তাই বাবার কথা জিজ্ঞেস করলো,আর জানবেইবা কি করে, স্কুল লাইফের পর তো মিমের সাথে আর দেখা হয় নাই,আর কোন প্রকার যোগাযোগ ছিল না। বাবার কথা জিজ্ঞেস করাতে আমি চুপ হয়ে যাই,তাই হয়তো মিম বুঝতে পারে,, 

মিমঃ স্যরি, আসলে আমি জানি না। তাই জিজ্ঞেস করেছি, তিন্তু কত দিন ধরে আনকেল গত হয়েছে??

আমিঃ সে এক লম্বা কাহিনি, তোমাকে পরে এক সময় বলনি, এখন বলো এখানে কত দিন ধরে জব করছো??

মিমঃ এইতো ৬ মাস,তা তুমি এখানে কেন? কোন দারকার নাকি? কার জন্য এসেছো ?

আমিঃ আমার কোন দরকার নেই.আর আমি কারো জন্য আসিও নি। আর আমি আজই এই অফিসে বসের পিএ হিসেবে জয়েন দিয়েছি।

আমার কথা শুনে মিম এক প্রকার অবাক হয়ে যায়। প্রথমেই পিএ পোষ্টে চলে গেছো।

মিমঃ ম্যামকে আগে থেকে চিন নাকি ?

আমিঃ আরে না, তাকে কখনও দেখিইনি আর চিনবো কিভাবে।

তোমাকে ম্যানাজারের পদটা দিলে ভালো হতো, কোন কিছুর বিনিময়ে তাও কথা বলতে পারতাম, কিন্তু একবারে পিএতে চলে গেছে,সারাদিন শুধু ম্যামের পিছন পিছন থাকবে। ( মিম আস্তে আস্তে এগুলো বলছিলো,কিন্তু আমি শুনতে পাইনি)

আমি: আচ্ছা মিম তুমি কি কিছু বলছো, মুখ বিরবির করে কি বলছো, বুঝতে তো পারছি না ?

মিম : আরে কিছু না,আচ্ছা আমার কাজ আছে পরে কথা বলি,আর দেখো আবার ম্যামের যেন মায়ায় আটকে না যাও। ম্যাম কিন্তু সেই পরিমাণের রাগি। তার থেকে একটু দুরে থাইকো।

Bangla Short Story

আমি আর কিছু না বলে চলে আসলাম আমার রুমে, ও আপনাদের তো বলাই হয়নি, আমি যে মিমের পিছনে পরে ছিলাম স্কুল লাইফে, মিম যে আমাকে পছন্দ করত না, সেটা না মিমও কিছুটা পছন্দ করতো আমাকে,কিন্তু আমি জানি না সে কেন বলতে পারে নি বা বলতে চায়নি,হয়তো সে কোন বিষয়ে ভয় পেয়ে ছিল, তাই হয়তো আমার সাথে তখন রিলেশনে আসতে পারে নি।

এখন আপনারা বলবেন যে মিম যদি আমাকে পছন্দ করতোই, আমি কিভাবে বুঝলাম, তাহলে শুনুন। মিম,আমি,জাহিদ, তুহিন,সাদিয়া আর সানজিদা ছিলাম স্কুল লাইফের বন্ধু। মিমের পিছনে ঘুরতে ঘুরতে এক সময় হাপিয়ে উঠে ছিলাম,তাই সাদিয়াকে বলে ছিলাম, 

আমি : সাদিয়া মিম কি কাওকে ভালোবাসে নাকি রে, আমি এতো বার বলার পরও আমাকে পাত্তা দিলো না।

সাদিয়া: মিম তোকে কিছুটা পছন্দ তরে কিন্তু কোন কারণে বলতে পারছে না, তা আমারা জানি না কেন বলে না,কিন্তু এটা শিওর যে তোকে মিম পছন্দ করে,

এই কারণে যানতে পারছিলাম,আর স্কুল লাইফের পর যে যার জিবন গুছাতে ব্যস্ত। তাই আর তাদের কোন খোঁজ নেওয়া হয় নাই। কিন্তু আজও ভাবি নি এভাবে মিমের সাথে দেখা হয়ে যাবে।

এভাবে কেটে যায় বেশ কিছু দিন। আর আমার পরিবারের কিছুটা অভাব পূরণ হয়েছে। এখন মা চাচ্ছে আমার বিয়েটা দেওয়া। কিন্তু আমি এখনই বিয়েটা করতে চাইনা।

কিন্তু মায়ের জোরাজুরিতে রাজি না হয়ে পারলাম না। কেননা মায়ের কথায় রাজি হচ্ছিলাম না বলে মা আমাকে কসম দিয়ে বলল,আমাকে বিয়ে করতে হবে না হলে তার মরা মুখ দেখতে হবে,

কলেজ লাইফে বাবা নামক ছাতাটা হারিয়ে ফেলেছি, এখন আপন বলতে মা আর বোন আছে, এখন যদি সামান্য বিয়ের জন্য মাকে হারিয়ে ফেলি, তাহলে কি নিয়ে বাঁচবো, তাই আর মায়ের কথা ফেলতে পারি নাই।

মার নাকি মেয়ে পছন্দ করা আছে, আমি এখনও মেয়ে দেখিনি,তবে মা যেহেতু পছন্দ করেছে,সেহেতু মেয়ে খারাপ হতে পারে না,  রুহি একবার বলে ছিলো ভাইয়া আমার হবু ভাবিকে একটা বারতো দেখো কত সুন্দর দেখতে,

আমি বলেছিলাম, আমার মা যেই মেয়েকে পছন্দ তরেছে,তাকে আমি চোখ বন্ধ করে বিয়ে করে নিবো। আর একবারে বাসর ঘরেই দেখবো তার আগে না।

Heart Touching Golpo

আজ আমার বিয়ে, আমি যেই অফিসে জব করি,সেই অফিসের কয়েকজনকে দাওয়াত দিছি, মিমকেও দিয়েছি। মিম আমার বিয়ের কথা শুনে প্রায় কান্না করে দিছে কিন্তু আমার সামনে চোখের পানি লুকালো। হয়তো এখন আমাকে পছন্দ করে কিন্তু বলতে না পারায় আমাকে হারালো।

বিয়ের সব কাজ সম্পূর্ণ করে রাতে বাসর ঘরে যাইতেছি। আর ভাবতেছি কিভাবে কি করবো,একটা নতুন মেয়ে, তাকে কখনো দেখিনি। তার সাথে এক বিছানায় থাকবো,এগুলো ভাবতেই কেমন যেন লাগছে,

না অনেক দেরি করে ফেলছি,বন্ধুরা মিলে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিলো,আর বলল, রাতে বিড়ালটা ভাল করে মারিস, আমি ওদের কথায় কোন উত্তর না দিয়ে ঢুকে পরলাম বাসর ঘরে। আমি যাওয়ার পর মেয়েটি আসাকে সালাম করলো, আমি তাকে উঠিয়ে বললাম, 

আমিঃ চলুন আগে নামাজ পরে নেই। এখনও মেয়েটির নাম জানিনি, বিয়ের সময় একবার বলে ছিল কাজি সাহেব, কিন্তু খেয়াল করি নি।

মেয়েটিঃ আচ্ছা, 

তারপর নামাজ পরে কাটে বসে আছি, তারপর মেয়েটি আসলো, তার পর তার সাথে কিছু কথা বলে ফ্রি হয়ে  নিলাম তারপর আর আপনারা নাই বা জানলেন....

বিয়ের ৩ দিন পর চলে গেলাম আমার গন্তব্য, মা বলে ছিল তাসফিকে আমার সাথে নিতে,আমিই নিই নি, বলেছিলাম তাহলে তোমাকে সহযোগিতা কে করবে,

তাসফিকে আসার সময় বলে আসলাম মায়ের যেন কোন প্রকার কষ্ট দেওনা,  এমন কথা বলবে না যে মা সেটা শুনে কষ্ট পায়, আর ভালো থেকো,আমি তারাতারি আসার চেষ্ট করবো।

এই দিকে আমি অফিসে এসে আবার কাজে মনযোগ দিলাম, ম্যাম আর আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে না। কারণ দেখে আমি সব কাজ সততার সহিত করি সেজন্য। 

২ মাস পর বারিতে যাচ্ছি, কিন্তু কাওকে বলিনি। সারপ্রাইজ দিবো বলে কাওকে কিচ্ছু জানাইনি, কিন্তু নিজেই যে এভাবে সারপ্রাইজ হয়ে যাবো তা কখনও ভাবি নি।

কি হয়ে ছিলো আমরিনে সাথে, কিসের জন্য আমরিন নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে যায়। কি এমন দেখে ছিলো যার জন্য সে এরকম নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে যায়। আগামী পর্বের জন্য অপেক্ষা করেন জানতে পারবেন। 

Click Here For Next Part - চলবে

Writer :- Amrin Talokder

Leave a Comment